স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে আপনি কি বেছে নিবেন !

0
23

স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে ভাত না কি রুটি খাবেন এই নিয়ে অনেকেই দ্বিধায় পড়ে যান। অনেকে ভাত খাওয়া ছেড়ে দিয়ে শুধু রুটির দিকেই ঝুঁকে পড়েন। অনেকে আবার ভাত খাওয়া ছাড়তে পারেন না। রুটি খেলেও ভাতের জন্য মনটা কেমন কেমন করে, বাঙালি বলে কথা! সুস্বাস্থ্যের জন্য ভাত-রুটি দুটোই খাওয়া যায়।

খাদ্যগুণ বিচার করতে গেলে ভাতের চেয়ে আটার রুটি ভালো। কারণ রুটি অনেক বেশি তাপশক্তি বা ক্যালোরি উৎপাদনে সক্ষম। যেমন-আধা ছটাক আটা থেকে পাওয়া যায় ৩৬.৪ ক্যালোরি। কিন্তু যখন রান্না হয়, তখন দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। চাল থেকে যখন ভাত  তৈরি হয় তখন চালের ক্যালোরি ১০২.১ থেকে নেমে দাঁড়ায় ৫৬.৭। অথচ আটার ক্যালোরি ৯৬.৪ রুটি হয়ে দাঁড়ায় ১০১.০২।

সাদা ধবধবে চালের প্রতি আমাদের দুর্বলতা রয়েছে। ছাঁটা চালে ভিটামিন কম থাকে। আবার যখন ভাতের মাড় বা ফ্যান ফেলে দিয়ে রান্না করা হয় তখন বাদ পড়ে যায় প্রোটিন, খনিজ লবণ ও ভিটামিনের একটা বড়ো অংশ। গমের তুষের ক্ষেত্রে একই ভুল করা হয়। আটা চেলে নিয়ে রুটি বানানো হয়। অথচ গমের তুষে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি১ বা থায়ামিন থাকে।

সব দিক বিচার করে পুষ্টিবিদরা বলেছেন, প্রতিদিনই দুই ধরনের খাদ্যশস্য যেমন ভাত-রুটি মিশিয়ে খাওয়া উচিত। এক্ষেত্রে ভাত কম ছাঁটা চালের আর রুটি তুষমুক্ত আটার হলে ভালো। ভাত-রুটির প্রসঙ্গে এদের অন্তর্গত সবচেয়ে মূলবান উপাদান ভিটামিন বি কমপ্লেক্স সন্বন্ধে জেনে নিন কিছু বিষয়-ভাতে পানি দিয়ে রাখলে অর্থাৎ পান্তা ভাতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স তৈরি হয়।

তবে পান্থাভাত ধুয়ে নিয়ে খেলে উপকার হবে না, ভেজানো পানিসহ খেতে হবে। রুটি করার সময়ও একটু বেশি পানি দিয়ে আটা মেখে বেশ কিছুক্ষণ রেখে দিয়ে তারপর রুটি বানাতে হয়। এতে ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স তৈরি হয়। মাখা আটার লেচি অল্প একটু তুলে রেখে পরের দিন আটা মাখার সময় সেটা মিশিয়ে নিতে হয়। আবার সেদিন একটু লেচি রেখে পরের দিনের ফ্রেশ আটার সঙ্গে মেখে রুটি তৈরি করতে হয়। এ পদ্ধতির সাহায্যেও রুটিতে ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স তৈরি হয়।

চাল ও গমের আটার পুষ্টিগুণ-প্রতি ১০০ গ্রাম মেশিনে ছাঁটা চালে রয়েছে ৩৪৫ কিলোক্যালোরি এনার্জি, প্রোটিন ৬.৪ গ্রাম, ফ্যাট ০.৪ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ৭৯.০ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ২৪ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ১৩৬ মিলিগ্রাম, আয়রন ০.৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি-১০.২১ মিলিগ্রাম, নিয়াসিন ৩.৮ মিলিগ্রাম।

তবে আতপ চালের চেয়ে সেদ্ধ চালে পুষ্টি বেশি। বিশেষ করে সেদ্ধ চালে ভিটামিন বি১ এবং কিছু খনিজ পদার্থ বেশি থাকে। প্রতি ১০০ গ্রাম গমের আটায় রয়েছে এনার্জি ৩৪১ কিলোক্যালরি, প্রোটিন ১২.১ গ্রাম, ফ্যাট ১.৭ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ৬৯.৪ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৪১ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ৩৭২ মিলিগ্রাম। সার্বিক বিবেচনায় বলা যায়, নির্দিষ্ট পরিমাণে যে কোনো খাবার আপনাকে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী করে তুলবে, পাশাপাশি রোগমুক্তিতেও সাহায্য করবে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here