খাদ্যাভ্যাসই বড় সমস্যা বাংলাদেশি ফুটবলারদের

0
28

খাদ্যাভ্যাসই বড় সমস্যা বাংলাদেশি ফুটবলারদের

বাংলাদেশের ফুটবলারদের সমস্যাগুলো কী? তালিকা করতে বসলে বেশ লম্বাই হয়ে যাবে। ৯০ মিনিট খেলার ফিটনেস নেই বেশির ভাগ খেলোয়াড়েরই। সামর্থ্যের অভাব, অনেকের মধ্যে নেই ভালো কিছু করার তাড়না। আধুনিক ফুটবল হয়ে গেছে অনেকটা শক্তিনির্ভর, যেখানে অনেক পিছিয়ে বাংলাদেশের ফুটবলাররা। এসব নিয়ে নতুন করে আর কীই–বা বলার আছে!
তবে কাতারে দুই সপ্তাহ অনুশীলন শেষে বাংলাদেশ দলের নতুন ইংলিশ ফিটনেস কোচ লিন্ডসে ডেভিস পুরোনো কথাটাই বললেন নতুন করে। তাঁর কাছে এ দেশের ফুটবলারদের সবচেয়ে বড় সমস্যা মনে হয়েছে ওই শক্তিতেই।
কাতারে অনুশীলন-অভিজ্ঞতা জানাতে কাল বিকেলে বাফুফে ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিন্ডসে ডেভিস বলছিলেন, ‘কিছু খেলোয়াড়ের ফিটনেস আরও বাড়াতে হবে। তবে সব ছাপিয়ে আমি বলব, সবচেয়ে বড় সমস্যা শক্তিতে। অর্থাৎ শক্তিতে ওরা পিছিয়ে আছে। এর উন্নতি করতে সময় লাগবে।’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘আমি ফুটবলারদের খাদ্যাভ্যাস বদলানোর চেষ্টা করছি। যদিও এটা খুব কঠিন কাজ। এই জায়গায়টায় আমি জোর দিচ্ছি বেশি। কারণ, ফুটবলারদের শারীরিকভাবে পুরোপুরি তৈরি করতে এই খাদ্যাভ্যাস আমার জন্য একটা বড় বাধা।’
এটুকু বাদ দিলে সংবাদ সম্মেলনটা হয়ে থাকল বাংলাদেশ দলের ফুটবলারদের প্রশংসায় ভরপুর। দুই স্বদেশি সহকারী কোচ ও ফিটনেস ট্রেনারকে সঙ্গে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসা প্রধান কোচ জেমি ডেকে খুব আত্মবিশ্বাসী লাগল। ইংল্যান্ডের পঞ্চম ডিভিশনে কাজ করা ৩৮ বছর বয়সী এই কোচও পূর্বসূরিদের মতো যেন পুরোনো কথাগুলোই বলে গেলেন, ‘ছেলেরা কঠিন পরিশ্রম করছে, খুব উন্নতি হচ্ছে, এই ধারা থাকলে আমরা মাঠে ভালো করব।’
ফুটবলারদের মানসিকতা তাঁর কাছে ‘দারুণ’। আগামী মাসে ইন্দোনেশিয়ায় হতে যাওয়া এশিয়ান গেমস নিয়ে বললেন, ‘আমাদের জন্য এটা সহজ নয়।’ পরক্ষণে যোগ করেন, ‘তবে ছেলেরা এমন কিছু করতে চায়, যাতে দেশের মানুষ খুশি হয়।’
এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের গ্রুপে উজবেকিস্তান, কাতার ও থাইল্যান্ড। সর্বশেষ খবর, এই গ্রুপে আরও একটি দল বাড়তে পারে। তাহলে ম্যাচও বাড়বে একটি। তা এশিয়ান গেমসে কী লক্ষ্য থাকবে? গতবার তো আফগানিস্তানকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। জেমি ডে বলছেন, ‘প্রতিপক্ষ দলগুলো শক্তিশালী, তবে এর অর্থ এই নয় আমরা গোল করতে পারব না। জিততে পারব না। মাঠে আমরা ইতিবাচক থাকব।’
এশিয়াডের দলে (অনূর্ধ্ব-২৩) সিনিয়র কোটায় তিন ফুটবলার আশরাফুল রানা, তপু বর্মণ, জামাল ভূঁইয়াকে নেওয়া হচ্ছে। স্ট্যান্ডবাই নাসির উদ্দিন। তবে নাম জমা দেওয়া হয়েছিল আরও দুজনের—গোলরক্ষক সোহেল ও চোটগ্রস্ত স্ট্রাইকার নাবিব নেওয়াজ জীবনেরও। মামুনুলকে বিবেচনাই করা হয়নি।
ইংলিশরা তো ‘ডিরেক্ট ফুটবল’ খেলে। আপনি কী চান? জেমি ডে হেসে বলেন, ‘এটা আসলে প্রতিপক্ষের ওপর নির্ভর করবে। কখনো কখনো দ্রুত প্রতি-আক্রমণে যেতে হবে। আমরা দ্রুতগতির আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে চাইব।’ তাঁর পছন্দের ফরমেশন ৪-২-৩-১।
ছক যা-ই হোক, সেপ্টেম্বরে ঢাকায় সাফ নামের বড় পরীক্ষা। জিততে হলে গোল করা চাই। কিন্তু দলে গোল করার লোকের আকাল। এ নিয়ে কোচের কথা, ‘এটা বাংলাদেশের ফুটবলে অনেক দিনের সমস্যা। তবে ভালো খবর, শাখাওয়াত রনি চোট কাটিয়ে এসেছে, জীবন আগামী সপ্তাহে আসবে ক্যাম্পে। সাদ দারুণ করছে। আশা করি, সাফে আমরা ভালো করব।’
কোচ যতটা আশাবাদী দল নিয়ে, মাঠের খেলায় যদি এত দিন ওটার প্রতিফলন থাকত, তাহলে কি আর বাংলাদেশের ফিফা র‍্যাঙ্কিং ২০০ ছুঁই ছুঁই হয়!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here